মাদরাসাতুত তাক্বওয়া

রুকইয়া শারইয়্যাহ

কুরআন ও সহীহ হাদিস অনুযায়ী আত্মরক্ষার আমল

রুকইয়াহ শারইয়্যাহ হলো কুরআনের আয়াত ও নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে বদনজর, জাদু-টোনা, জিনের প্রভাব ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার একটি শরিয়তসম্মত আমল। নিচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আয়াত ও দোয়াগুলো দেওয়া হলো।

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কে সুপারিশ করতে পারে? তিনি জানেন মানুষের সামনে ও পিছনে যা আছে। তাঁর জ্ঞানের কিছুই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটির হেফাজত তাঁর জন্য কষ্টকর নয়। তিনি সুউচ্চ, মহান।
হাদিসে এসেছে, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেফাজত থাকে এবং শয়তান নিকটবর্তী হতে পারে না।

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ۝ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রাসূল ঈমান এনেছেন তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে, আর মুমিনরাও। সকলে ঈমান এনেছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি — আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কাউকে পার্থক্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি; হে আমাদের রব, আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনারই কাছে প্রত্যাবর্তন। আল্লাহ কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না। প্রতিটি ব্যক্তি যা অর্জন করে তার প্রতিদান তারই এবং যা মন্দ অর্জন করে তার শাস্তিও তারই। হে আমাদের রব, ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না... আপনিই আমাদের অভিভাবক, কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
হাদিসে এসেছে, রাতে এই দুই আয়াত পাঠ করলে তা বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায় (রক্ষাকবচ হিসেবে)।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۝ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ۝ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ۝ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ۝ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ۝ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ۝ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের রব। যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ দেখান — তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দান করেছেন; তাদের পথ নয় যারা আপনার গজবে পতিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
সূরা ফাতিহাকে "রুকইয়াহ" হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে একটি সহীহ হাদিসে — সাহাবিদের একজন এটি পড়ে বিষদংশনে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ করেছিলেন এবং নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা অনুমোদন করেছিলেন।

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۝ اللَّهُ الصَّمَدُ ۝ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۝ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ۝ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۝ مَلِكِ النَّاسِ ۝ إِلَٰهِ النَّاسِ ۝ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۝ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ۝ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
সূরা ইখলাস: বলুন, তিনি আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি জন্ম দেননি এবং জন্মগ্রহণও করেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা ফালাক্ব: বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে — তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা ছড়িয়ে পড়ে, গিরায় ফুৎকার দানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সূরা নাস: বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহর কাছে — কুমন্ত্রণাদাতা, আত্মগোপনকারীর অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, জিন হোক বা মানুষ।
নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ অবস্থায় নিজে এই তিন সূরা পাঠ করে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন এবং হাত বুলাতেন। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার করে পাঠ করা সুন্নত।

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।

আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যাঁর নামের সাথে আসমান-জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
এই দোয়াগুলো প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার পাঠ করা হাদিসে নির্দেশিত হয়েছে — অসুস্থতা, বদনজর ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে সুরক্ষার জন্য।
রুকইয়াহ করার আদব ও নিয়মাবলী
জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন এবং শারীরিক অসুস্থতায় চিকিৎসকের চিকিৎসাও একইসাথে চালিয়ে যান।
হোম জিকির রুকইয়া জিজ্ঞাসা লগইন